top of page

মালতী মাধবী কুঞ্জ


লেখক : তাপস রায়

প্রকাশক : ভিরাসত আর্ট পাবলিকেশন

প্রচ্ছদ : পার্থপ্রতিম রায়


দৈর্ঘ্য : ২২ সিএম

প্রস্থ : ১৪ সিএম

স্পাইন : ১.৮ সিএম


প্রকাশকের কথা


বাংলায় বৈষ্ণব ধর্মকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চৈতন্যসখা নিত্যানন্দ জাতির বিচার করেননি। ব্রাহ্মণেতর মানুষদের সমাজে পরিচয় এনে দিতে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। দ্রুত বৈষ্ণবদের সংখ্যা বেড়েছে। এইসব গৃহস্থ্য বৈষ্ণবদের বলা হতো ‘জাতবৈষ্ণব’, যারা গোঁড়া-বৈষ্ণব বা গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের থেকে তুল্যমূল্যতায় অনেক নীচে। আবার এই জাত-বৈষ্ণবদের থেকে আরও নীচে অবস্থান করে ভিক্ষাজীবী বৈরাগী বোষ্টম বা সহজিয়ারা। তারা আউল, বাউল, কর্তাভজা। বৌদ্ধ, শাক্ত, শৈবরা যেমন সাধনসঙ্গিনী নিয়ে তন্ত্র সাধনা করেছে তেমনি এই সহজিয়া আখড়াধারীরাও দেহসাধনার পথে মোক্ষলাভ করতে চায়। আর জাতবৈষ্ণবদের ছিল পনেরোটি পরিবার। যেমন অদ্বৈত পরিবার, নিত্যানন্দ পরিবার, শ্যামচাঁদ পরিবার ইত্যাদি।

এই উপন্যাস আবর্তিত হয়েছে নিত্যানন্দ পরিবারের নবদ্বীপচন্দ্র গোস্বামীর ছেলে নায়ক রসিকবিহারীর সাথে পাটুলি ঘরের সহজিয়া পরিবারের মেয়ে গোলাপবালার প্রেম, পরিণয় ও প্রতিহিংসা নিয়ে। গোলাপবালার একটাই লক্ষ্য প্রভু নিত্যানন্দ পত্নী জাহ্নবাদেবীর মতো বৈষ্ণবপাটের প্রধান হওয়া।

প্রেমিক রসিকবিহারীর বাবা নবদ্বীপচন্দ্র গোস্বামীর সাত হাজার শিষ্য-শিষ্যার এই শ্রীপাট বাংলা জুড়ে বিখ্যাত। গোলাপবালার লক্ষ্য সেই শ্রীপাটের দখল নেওয়া। শ্বশুরমশাই নবদ্বীপচন্দ্রকে রূপ ও শাস্ত্র আলোচনায় ভুলিয়ে গোলাপবালা যেমন নীচু জাতের বৈষ্ণব হয়েও রসিকবিহারীকে বিয়ে করতে সমর্থ হয়, তেমনি খুব দ্রুত এই নবদ্বীপচন্দ্রের শ্রীপাটের দখল নিয়ে নেয়।

নবদ্বীপচন্দ্র চাইছিলেন বাংলার বৈষ্ণবদের একত্রিত করে একটা বড়ো ছাতার নীচে নিয়ে আসতে। গোঁড়া বৈষ্ণব, জাতবৈষ্ণব আর সহজিয়ারা যদি মিলেমিশে যায়, এই ধর্মের এত শক্তি হবে যে সহজে খ্রিস্টান আর দাঁত ফোটাতে পারবে না। বেঁচে যাবে বৈষ্ণবরা। মানে গোটা বাংলার বৈষ্ণবকে নিয়ে একটি বৃহত্তর বৈষ্ণব সংগঠন। ভেবে দেখেছেন নবদ্বীপচন্দ্র, যে সেই বড়ো ছাতাটিকে এমনভাবে বানাতে হবে যে তার মেরুদণ্ড যেন হয় শক্ত। তাতে গৌড়ীয়দের একটু সুবিধে দিলে ক্ষতি নেই। বরং সুবিধে আছে। বাংলার বাইরের বৈষ্ণবরা গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের চেনে, অন্য নানা দল-উপদল বৈষ্ণবদের তারা পাত্তা দেয় না। কিন্তু উপদলই যে বাংলার বৈষ্ণব সমাজের বৃহদাংশ। নবদ্বীপচন্দ্র চান, যে যার মতো যেমনভাবে ধর্মাচরণ করছিলেন, তাতে বাধা না-দিয়ে, সবাইকে একটা সংগঠনের আওতায় নিয়ে আসা। প্রত্যেকের ভেতর একটা যোগসূত্র তৈরি করাই তাঁর প্রাথমিক উদ্দেশ্য। তিনি ভাবনাটাকে স্বচ্ছ করতে পেরে মনে মনে খুশি হলেন।

শুধু নবদ্বীপচন্দ্র গোটা বাংলা ঘুরে এই ঐক্যবদ্ধ করার কাজে নেমে পড়তেই পুত্রবধূ গোলাপবালার ইচ্ছে হল, গোটা বাংলায় নিজের প্রভুত্ব স্থাপন করবে সে। স্বামী রসিকবিহারীর বাবা নবদ্বীপচন্দ্রের হয়ে সেই-ই সংগঠনের একটা বড়ো পদ নেবে। বাংলা জুড়ে দাপিয়ে বেড়াবে। এমনকি নিত্যানন্দপত্নী জাহ্নবাদেবীর মতো বৃন্দাবনেও নিজের প্রভাব বিস্তারের স্বপ্ন দেখতে থাকে। কিন্তু গোলাপবালা ওরফে মাধবীর কাছে সেই স্বপ্ন কি ধরা দেবে! এই প্রশ্নই এই উপন্যাসকে টেনে নিয়ে যায়৷

 যাক্ গল্পের নির্জার্সটি আপনাদের কেন জানি-না বলেই ফেললাম । জানি না প্রকাশক হিসেবে এটা আমার ধৃষ্টতা হল কি-না! আসলে এই গল্প গড়িয়েছে ইতিহাসকে হাতে নিয়ে। পড়তে পড়তে আমিও কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলাম চৈতন্যদেব পরবর্তী বাংলায় নানা বৈষ্ণব ধর্মান্দোলনের নানামুখি স্রোতের ঘূর্ণির মধ্যে। পাতা ওলটালে আপনারা সেই রোমাঞ্চকর দার্শনিক তৎপরতার স্বাদ পাবেন। তাই কথা না-বাড়িয়ে কেবল ধন্যবাদ জানালাম লেখককে যিনি আমাদেরকে এই সুন্দর কাজটি করার অনুমতি দিয়েছেন এবং সঙ্গে তাঁদের যাঁরা এই নির্মাণে আমার সহযোগী হয়েছেন।

—    গণেশপ্রতাপ সিং

 

লেখক পরিচিতি


তাপস রায়ের জন্ম হাবরা বাণীপুর-এ। কবিতা লিখেই সাহিত্য জগতে প্রবেশ। তবে গল্প, উপন্যাস লিখতে এসেই সাড়া ফেলেছেন। প্রথম উপন্যাস পোড়ামাটির দেউল বেরিয়েছে ‘দেশ’ শারদ সংখ্যায় । আর সেটি আনন্দ বলিশার্স থেকে বই আকারে প্রকাশ পেলে ২০১৬-র ‘প্রথম আলো’ পুরস্কারে তা স্বীকৃতিও পায়। কবিতার জন্য বীরেন্দ্র পুরস্কার ২০০৬ সালে। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস : মানদাসুন্দরীর কাঁথা (আনন্দ পাবলিশার্স), বন্দেমাতরম (একুশ শতক), শুধু পটে লেখা (মিসিসিপির মেঘ)।

Комментарии


bottom of page